রাগ জীবনের অনেক কিছু কেড়ে নেয়, রাগ করার আগে ভাবুন!

রাগ জীবনের অনেক কিছু কেড়ে নেয়, রাগ করার আগে ভাবুন!

রাগ মানুষের খারাপ রিপু গুলোর মধ্যে অন্যতম। জগতের বেশীর ভাগ সমস্যার মূলে রয়েছে রাগ। তাই আপনার আমার প্রত্যেকেরই এ রিপু নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হওয়া উচিত। রাগ বিশেষ কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট নই। এটা কম বেশী সব মানুষের মধ্যেই আছে। পার্থক্য হলো রাগ নিয়ন্ত্রণে।কেউ কেউ রাগকে সব সময় বা যে কোন জটিল পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। আবার অনেকেই অতি সামান্য বা তুচ্ছ বিষয়েও রেগে যান। নিজের মানসিক শক্তির উপর নির্ভর করে রাগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে শান্ত থাকতে পারা একটি সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্ট। জীবনে অহেতুক জটিলতা এড়াতে রাগ নিয়ন্ত্রণের কোন বিকল্প নেই। রাগের মধ্যে হয় নিজের নতুবা অন্যের সর্বনাশের বীজ লুকানো থাকে।

রাগ এ ধ্বংস, রাগেই সর্বনাশ। মানুষের মাধ্যমে পৃথিবীতে  যত সমস্যার সৃষ্টি অথবা কোন কিছু ধ্বংস হয়েছে তার মূলে রয়েছে রাগ। এই যে রাজায় রাজায় যুদ্ধ, এক দেশ আর এক দেশের দ্বারা দখল। এতো হানাহানি, মারামারি, দ্বন্দ, কলহ, মনমালিণ্য সবার মূলেই আছে রাগ। তবে এর সাথে সহযোগী হিসেবে লোভ ও স্বার্থপরতাও আছে। কেউ রেগে যাবার আগ পর্যন্ত নিজেই জানেন না, এ রাগ আসলে তার বা অন্যের কতটা ক্ষতি করবে। এটা জানলে তিনি হয়তো রাগই করতেন না। তাহলে বুঝুন রাগ কতোটা মারাত্মক রিপু।

রাগ জীবনের অনেক কিছু কেড়ে নেয়, রাগ করার আগে ভাবুন!

এক দেশের অধিবাসী ভুল বশতঃ সীমানা পেরিয়ে আর এক দেশে ঢুকে পড়ল। কারণ, জানা, অজানা, পরিস্থিতি, স্থান, কাল, পাত্র ইত্যাদি কিছুই বিবেচনা না করে অমনি সে দেশের সীমান্ত রক্ষী তার বুকে গুলি চালিয়ে দিল। খবরে তা ছড়িয়ে পড়ল দেশে। শুরু হলো উত্তেজনা, আস্তে আস্তে অবস্থা প্রকট আকার ধারণ করল এবং রুপ নিল দুটো দেশের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহের। এ অবস্থায় উভয় দেশের লোকই মাশুল গুনল। দেখুন, শুধু মাত্র তুচ্ছ একটা বিষয়ে রাগের কারণে। কত জীবন যে অকালে ঝরে পরে, কত বাবা মার বুক খালি হয়, কত সন্তান যে বাবা মা হারায় তার হিসেব কে রাখে!

রাগ জীবনের অনেক কিছু কেড়ে নেয়, রাগ করার আগে ভাবুন!

এমন যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে  অর্থ, সম্পদ, জনবল, সময় ইত্যাদির হিসেব  কিন্তু বাদই রয়েছে। দুটো দেশের আকাশ বা সমুদ্র সীমার ক্ষেত্রেও রাগের কারণে বেড়ে ওঠা উত্তেজনায় সমভাবে একই কথা প্রযোজ্য। সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা নতুন দ্বীপের অধিকার নিয়ে শুরু হয় রাগারাগি। লোভের কারনে এক জনের জমি অন্যের দখল বা একজন ব্যক্তির দ্বারা অন্যের সম্পত্তি দখলেও রাগ এবং ধ্বংসের একই চিত্র দেখা যায়। এমন ভাবে প্রতিনয়ত আমরা রাগের কাছে পরাজিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। সাথে লোভ এবং হিংসা, কাঁটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা দেয়ার মত আমাদের ক্ষতি ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। এ ভাবে রাগ আমাদের জীবন থেকে ভালো জিনিস গুলো ধ্বংস করছে।

রাগ জীবনের অনেক কিছু কেড়ে নেয়, রাগ করার আগে ভাবুন!

বাসা বাড়ীতে আপনাদের যথেষ্ট বড় স্কুল কলেজগামী ছেলে মেয়ে নিশ্চয় আছে। কম বেশী প্রায় সব পরিবারের সাথে ছোট একটি কাজের ছেলে মেয়েও থাকে। একটি কাজের মেয়ের জন্ম যদি কোন স্বচ্ছল পরিবারে হতো। তবে সেও কিন্তু আমাদের ছেলে মেয়ের মত হাসি খুশি সুখে আনন্দে থাকত। এই কাজের মেয়েটির অসাবধানতার কারনে হাত থেকে একটি কাঁচের গ্লাস পড়ে ভেঙ্গে গেল। সাথে সাথেই অনেক গৃহিনী রাগ করে তাকে গালি দেয় বা প্রহার করে। হরহামেশা খবরে দেখা যায় অনেক গৃহিণী কাজের মেয়েকে গরম কিছুর ছ্যাঁকা দিয়ে জঘণ্য নির্যাতন ও আহত করে। বুঝুন, অতি তুচ্ছ কারণে রাগ করে আমরা কাজের মেয়ের প্রতি কতটা অমানবিক!

কাজের মেয়ের হাত হতে কাঁচের গ্লাস পড়ে যাবার এই ঘটনা কিন্তু আমাদের ছেলে মেয়ের দ্বারাও ঘটতে পারতো। এমন পরিস্থিতিতে কিন্তু আমরা রাগ দেখিয়ে নিজেদের সন্তানের প্রতি এমন অমানবিক হতাম না। তার মানে ইচ্ছে করলে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। কাজের মেয়েকে নির্যাতনের মত এমন অমানবিক ও অমানুষের কর্ম আমরা রাগের কারণে করছি। একই ভাবে প্রতিনিয়ত আমরা হাজারো ক্ষতি বা ধ্বংসের জন্ম দিচ্ছি যার মুলে আছে রাগ। আমার বর্ননার মত একই চিত্র দাম্পত্য জীবন, পরিবার, সমাজ, বা রাষ্ট্রের বেলায়ও দেখা যায়। রাগ কোন ভাবেই সুফল বয়ে আনে না। বরং জীবন থেকে এমন কিছু কেড়ে নেয় যা অপুরণীয়।

রাগ জীবনের অনেক কিছু কেড়ে নেয়, রাগ করার আগে ভাবুন!

সুতরাং সব ক্ষেত্রে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের সকলেরই ধর্য্য ধারণ করা উচিত। একই সাথে রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা উচিত। রাগ নিয়ন্ত্রনে ধর্ম, বিভিন্ন গ্রন্থ, মনীষীগণ এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের বলা পদ্ধতি অনুশীলন করা উচিত। সব সময় মনে রাখতে হবে রাগ বাস্তব জীবনে ভালো কিছু বয়ে আনে না বরং জীবনকে দূর্বিসহ করে।

Leave a Reply